
‘আমার নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। আগে তো জিনিসপত্রের দাম কম ছিল, তখন মাঝেমধ্যে মাছ-মাংস খাওয়া হতো। এখন আর মাছ-মাংস খাওয়ার চিন্তা করি না। চাল কিনলে সেদিন আর পছন্দমতো তরকারি হয় না। এর মধ্যে আবার ছেলেদের পড়াশোনার খরচও দেয়া লাগে,’ পঞ্চাশোর্ধ্ব হাসান আলী এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সময় সংবাদকে।
রংপুর মহানগরীর হনুমানতলা এলাকায় সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা অস্থায়ী বস্তিতে। সংসার জীবনে তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানোর পর বিয়ে দিয়েছেন। আর দুই ছেলের মধ্যে একজন এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে।
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সুরভি উদ্যানের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে শিশুদের খেলনা বিক্রি করে আসছেন হাসান আলী। এর আগে তিনি চানাচুর ও চটপটি বিক্রি করতেন। পুঁজি কম থাকায় এখন তিনি পুরোপুরি খেলনা বিক্রেতা।
হাসান আলী বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৮টায় এসে খেলনার পসরা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। এভাবে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যা বেচা-বিক্রি হয়, সেটাই আমার ব্যবসায়িক আয়। এই আয় দিয়ে কোনোভাবে টিকে আছি। সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়। তারপরও পরিবারের জন্য হাল ছাড়িনি।’
‘খেলনা বিক্রি করে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয়ে বাচ্চাদের পড়ালেখা আর সংসারের খরচাপাতি করতে খুব কষ্ট হয়। তারপরও আমি খুশি, ভালো আছি। আগে জিনিসপত্রের দাম কম ছিল, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো না। এখন তো সবকিছুর দাম বেশি। ব্যবসা ছোট হোক তবু তো ভিক্ষা করছি না। মানুষের কাছে হাত পেতে খাওয়ার চাইতে কষ্ট করে কিছু করতে পারাটাও আনন্দের,’ বলেন হাসান আলী।
তিনি আরও বলেন, আমি কাজ করে খেতে পছন্দ করি। শরীর-স্বাস্থ্য আল্লাহ ভালো রাখছেন। অনেকেই আছে সামান্য অসুখ-বিসুখে, একটা হাতের বা পায়ের সমস্যার কারণে রাস্তাঘাটে ভিক্ষা করেন। আমি মনে করি এটা ঠিক না। মানুষের কাছে হাত পেতে খাওয়ার চাইতে কষ্ট করে কিছু করতে পারাটাও আনন্দের। আবহাওয়া ভালো থাকলে বা বিশেষ দিনগুলোতে কখনো কখনো ব্যবসা হয়। তখন দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকার পর্যন্ত খেলনা বিক্রি হয়। এতে ৭০০ থেকে হাজার পর্যন্ত আয় হয়।
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মোবাইলে সময় সংবাদকে বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য টিসিবির কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসান আলী যদি আবেদন করে থাকে তাহলে তার বিষয়টি দেখা হবে। আর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় রংপুর নগরে কাজ শুরু হলে তার বিষয়টি আমরা অবশ্যই দেখব।
